বীরভূম জেলায় সর্বপ্রথম মুখের ক্যান্সারের সফল অপারেশন সম্ভব হল শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। বৃহস্পতিবার প্রায় আট ঘন্টা ধরে এই সফল অপারেশন করা সম্ভব হয়।

বোলপুর, ২০ জুলাই:

বীরভূম জেলায় সর্বপ্রথম মুখের ক্যান্সারের সফল অপারেশন সম্ভব হল শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। বৃহস্পতিবার প্রায় আট ঘন্টা ধরে এই সফল অপারেশন করা সম্ভব হয়।
শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রয়েছে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি। অভিজ্ঞ ডাক্তারবাবু ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ক্যান্সার অপারেশনের কাজ সফলভাবে শুরু হয়েছে এই হাসপাতালে। এর আগেও স্টমাক ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের ও সফল অপারেশন করে রোগীকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব হয়েছে।
আজ ওরাল (মুখ) ক্যান্সারের সফল অপারেশন এক নতুন অধ্যায় রচনা করলো। কারণ বীরভূম জেলায় এই প্রথম মুখের ক্যান্সারের অপারেশন করা হলো।
শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অভিজ্ঞ চিকিৎসক মন্ডলী বৃহস্পতিবার এই অপারেশন করেন। ডা: রূপম সিনহা, ডা: সায়ন্তন ঘোষ ও ডা: সুদেষ্ণা মণ্ডলের তত্ত্বাবধানে এই অপারেশন সম্ভব হয়েছে। প্রায় আট ঘণ্টা ধরে এই অপারেশন চলে।
ডা: সায়ন্তন ঘোষ জানান, “এই রোগীটির নিচের ঠোঁটে ক্যান্সার হয়েছিল। এটা ফোর্থ স্টেজের ক্যান্সার ছিল। দীর্ঘ পাঁচ ছয় বছর ধরে বিভিন্ন জায়গায় নানা রকম চিকিৎসা করেছিলেন কিন্তু কোন ফল হয়নি, শুধু অবস্থার অবনতি হয়েছে। অবশেষে তিনি শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসেন। আমরা প্রথম দেখাতেই বুঝতে পারি যে ওনার ওরাল ক্যান্সার রয়েছে এবং সেই ক্যান্সারটা নীচের ঠোঁট থেকে চিবুক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।”
এরপরেই বিভিন্ন পরীক্ষার নিরীক্ষা করে অপারেশন করার সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকেরা। যেহেতু রোগী দীর্ঘদিন ধরে কিছু না খেয়ে ছিলেন তাই তিনি অপারেশনের পক্ষে অত্যন্ত দুর্বল হওয়ার জন্য তাকে প্রথমে বিভিন্ন চিকিৎসা করে স্টেবল করা হয়। অবশেষে আজ বৃহস্পতিবার এই অপারেশন করা সম্ভব হয়েছে।
ডা: রূপম সিনহা জানান, “পান গুটকা এবং এই ধরনের জিনিস খেয়ে বহু মানুষের এখন মুখে ক্যান্সার হচ্ছে। এটা সেরকমই একটা ঘটনা। আমরা সব সময় বলি যে মুখের ঘা তিন সপ্তাহের বেশি থাকলেই তাকে অবহেলা না করে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। তবে আমরা খুশি যে শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে রোগীর সফল অপারেশন করতে পেরেছি। মুখেরও রিকন্সট্রাকশন করা হয়েছে। বীরভূম জেলায় এই ধরনের অপারেশন প্রথম।”
ডাক্তার বাবুরা বলেন যে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যে উন্নত প্রযুক্তি গড়ে উঠছে তাতে করে আগামী দিনে আরও ভালো রিকনস্ট্রাকশন করা সম্ভব হবে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে ওই রোগীকে অপারেশনের পর এখন ICU তে রাখা হয়েছে। তার অবস্থা স্থিতিশীল।
“অভিজ্ঞ ডাক্তারবাবুদের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তিকে ব্যবহার করেই আমরা মানুষকে সুলভে সুস্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর। সেই জন্যই আমরা প্রতিমুহূর্তে কাজ করে চলেছি। আমরা খুশি যে মানুষ চিকিৎসা পাচ্ছেন এবং ডাক্তারবাবুরা আপ্রাণ চেষ্টা করে সেই পরিষেবা তাদেরকে পৌঁছে দিচ্ছেন,” বলে জানান মেডিকেল কলেজের সভাপতি মলয় পীট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *