তাপসি মালিক হত্যাকান্ড মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত সিঙ্গুরের CPIM নেতা সুহৃদ দত্ত প্রয়াত

সিঙ্গুরের বাম নেতা সুহৃদ দত্ত প্রয়াত। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি। সিঙ্গুরের তাপসি মালিক মৃত্যু মামলায় মূল অভিযুক্ত ছিলেন তিনি। সিবিআই-র হাতে গ্রেফতারও হয়েছিলেন তিনি। হাইকোর্টে পরে তিনি জামিন পান।

প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গুরে টাটাদের ন্যানো প্রকল্প এলাকার জমির ভিতর থেকে তাপসী মালিকের পোড়া ঝলসানো নগ্ন মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছিল। ভিডিও বাংলার রাজ্য রাজনীতির তোলপার করে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সেইসময় রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং বিরোধী নেত্রী ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় তাপসী মালিক হত্যা মামলার জন্যে সিবিআই তদন্তের দাবিতে সরব হয় রাজ্যের তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস।

তদন্তে নেমে তাপসী মালিককে ধর্ষণ এবং খুনের অভিযোগে দুই সিপিএম নেতা সুহৃদ দত্ত ও দেবু মালিককে গ্রেফতার করে সিবিআই। বেশ কয়েক বছর জেলে থাকার পর জামিনে মুক্তি পান দু’ জনেই৷ কিন্তু আজও ওই মামলার নিষ্পত্তি হয়নি।

একাধিকবার সংবাদমাধ্যমের কাছে সুহৃদ দত্ত অভিযোগ করেছিলেন, তাপসী হত্যা মামলায় হেফাজতে নিয়ে সিবিআই নারকো অ্যানালিসিস পরীক্ষার করার পর থেকেই চর্ম রোগের জটিল সমস্যা দেখা দেয় তাঁর শরীরে। যা থেকে শরীরে অন্যান্য সমস্যাও দেখা দেয়।

তাপসী মালিক হত্যার মামলার প্রসঙ্গ উঠলে অসুস্থ সুহৃদ দত্ত বলতেন, মৃত্যুর আগেও জেনে যেতে পারব না, ঘটনায় প্রকৃত দোষী না নির্দোষ ছিলাম।

মাঝে একবার সিবিআই তদন্ত নিয়ে সুহৃদ দত্ত বলেন, সিবিআই যে ভাবে আমার ক্ষতি করেছে, তাতে সিবিআই এর তদন্তের প্রতি আমার আস্থা নেই। শেষ কয়েকদিন নানা রোগে জর্জরিত ছিলেন তিনি। হাঁটাচলার শক্তিও হারিয়েছিলেন। স্পষ্ট ভাবে কথাও বলতে পারছিলেন না।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর বারোটার সময় নিজের বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই সিপিআইএম নেতা সুহৃদ দত্ত। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সিঙ্গুরের বাম কর্মীদের মধ্যে। তার মৃত্যুতে সোজ্ঞাপন করেছেন বাম রাজনৈতিক দলের নেতারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *